আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য উমামা বেগম কনককে (৪০) কুপিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী ওমর ফারুক (৫১)। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ এপ্রিল) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় ওমর সেচ্ছ্বায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে পল্লবী থানার মিরপুর ডিওএইচএস, ৭৪৩ নম্বর বাসায় ওমর ফারুক বটি দিয়ে তার স্ত্রী উমামাকে এলোপাতাড়ি কোপান। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেবল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৪ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় উমামা বেগম কনকের স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর শনিবারই ওমর ফারুককে বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বটি ও ফল কাটার চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের বড় বোন রুমা আক্তার জানান, কনকের স্বামী ওমর ফারুক দীর্ঘদিন জাপান ছিলেন। দেশে আসার পর থেকে তিনি বেকার। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ হতো। এর জের ধরে গত রাতে ফারুক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কনককে কুপিয়ে আহত করে। পরে খবর পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন আজ ভোরে সে মারা যায়। কনককে কুপিয়ে আহত করার পর ফারুক বাসাতেই ছিলেন। তিনি সবার কাছে এই ঘটনা স্বীকারও করেছেন। এই দম্পতির বাড়ি নরসিংদী সদরে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মিরপুরের পল্লবীতে থাকতেন।